ইন্টারনেট মার্কেটিং এ মেয়েরা এত কম কেন? এবং আমি যা করলাম

by তমাল আনোয়ার on July 15, 2014

যতগুলো ইন্টারনেট মার্কেটিং মিটাপ/সেমিনারে আমি গিয়েছি, সেখানে একই জিনিস লক্ষ করেছি, ছেলেরা ৯৯% আর মেয়েরা নেই বললেই চলে। আমি ভাবতে থাকি যে কেন এমন হল?

আমি ইন্টারনেটে রিসার্চ করলাম আর দেখলাম যে আমাদের দেশের জেন্ডার রেশিও ৪৯/৫১ অর্থাৎ ৪৯% ছেলে আর ৫১% মেয়ে[1]। অথবা প্রতি ১০০টি ছেলের জন্য ১০৮টি মেয়ে।

ভালই হলো, যখন আমার পিয়ারের ১০০ জন বিয়ে করে ফেলবে, আমার জন্য আরো ৮ জন থাকবে বাছাই করার জন্য।

ব্যাপারটা অদ্ভুত না? যে আমাদের দেশে মেয়েদের সংখ্যা বেশি? এখানে অবাক হবার কিছু নেই এটা প্রকৃতি (এবং আল্লার দান), এমনটি হতেই পারে তবে যে বিষয়টি আমাকে চিন্তার মাঝে ফেলে তা হল আমাদের দেশ তার ৫১% জনবলকে কাজে লাগাতে পারছে না। এই ৫১% মানুষ বোঝা হয়েই আছে।

একটা স্টার্টআপ কোম্পানীতে যদি টিম মেম্বার সবাই ছেলে হয়ে থাকে, তাহলে তারা কেবলমাত্র ৫০%, কারন বাকি ৫০% ঘরে বসে আছে। এটা একটা সাইন্টিফিক ফ্যাক্ট যে ছেলেদের আর মেয়েদের চিন্তা/দক্ষতা/ক্ষমতা আলাদা আলাদা[2], তাই কেবলমাত্র ছেলেদের কাজে পাঠিয়ে আর মেয়েদের ঘরে বসিয়ে একটা জাতি বেশিদূর যেতে পারবে না। এটা আমার কথা না, এটা বিল গেটস এর কথা[3]।

অন্যান্য সেক্টরের কথা আমি জানি না তবে আমি যে সেক্টরে আছি, ইন্টারনেট মার্কেটিং, এখানে তো যে কেউ ঘরে বসে কাজ করতে পারে?

আমি বিমপা গ্রুপে আমার মত শেয়ার করলাম, (লিংক)

status mine1

নিজেকে কোট করছি

“ইন্টারনেট মার্কেটিং এ মেয়েরা এত কম কেন?

বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৫১ শতাংশই মেয়েরা, তাহলে ইন্টারনেট মার্কেটিং ফিল্ডে মেয়েদের সংখ্যা এত কম কেন?

আপনার মতে এর কারন কি?

১) ইন্টারনেট মার্কেটিং/টেক বিষয়ক কাজ কি শুধুই ছেলেদের ফিল্ড?
২) ফিল্ডে পর্যাপ্ত পরিমান ফিমেল রোল মডেলের অভাব?
৩) শিক্ষার অভাব?
৪) অনলাইনে নিরাপত্তার অভাব?

আপনার কি মনে হয়, ইন্টারনেট মার্কেটিং এ মেয়েরা এত কম কেন? এর জন্য কি করা যায়?”

আমি এতে অনেক সারা পেলাম। একজন তো শুরুতেই বললো,

mamun1

কোট করছি, “শুধু ছেলে তাই পারছি না, এত কম্পিটিশন আবার মেয়েদের আনতে চাচ্ছেন! দরকার কি ওরা ঘরে বসে ডিম ভাজি করুক”

প্রথমত, ইন্টারনেট + বিশ্ববানিজ্য এতটাই বিশাল যে যে কেউ তার মত কাজ করতে পারে, আর তার অংশ নিয়ে নিতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে সবাই ওই সহজ কাজটাতে ভিড় করে বসে আছে (লো হ্যংগিং ফ্রুট) তাই তার এত কম্পিটিশন মনে হচ্ছে।

এই কমেন্টটা পড়ে অনেক কষ্ট পেলাম কারন মানুষের এরকম মন মানসিকতার কারনে হয়ত মেয়েরা এখনো পিছিয়ে আছে। মেয়েদের শিখালে তো চাবি কাঠি ওদের হাতে এসে যাবে, ফলে তাদের ওপর শাসন করা যাবে না।

আবুল কাশেম লিখেছেন,

kashem1

কোট করছি,

“আসলে কোন সেক্টরেই বা বেশী বা যথেস্ট? একমাত্র গার্মেন্টস ছাড়া সব অফিসেই মেয়েরা মাইনরিটি। শিক্ষকতায় তুলনামুলক ভালো উপস্থিতি আছে। যদি নিরাপত্তা ,সুযোগ আর সুবিধার কথা বলা হয় তাহলে অনলাইন প্রফেশনাল হওয়া তাদের জন্য অনেক বেটার চয়েস।”

আমি একমত যে অনলাইন কাজ মেয়েদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। আমি ২য় যে কারনটা লিখেছিলাম, ফিমেল রোল মডেলের অভাব, এখানে আসিফ আনোয়ার পথিক একটা মন্তব্য করেছেন,

tamal-asif1

নিজেকে কোট করছি,

“২) ফিল্ডে পর্যাপ্ত পরিমান ফিমেল রোল মডেলের অভাব? উপরের কারনটা চক্রাকারে ঘুরতে থাকবে, কারন মেয়েরা কাজে না আসলে, রোল মডেল তৈরী হবে না সুতরাং আবার সেই সমস্যা! তাই আমার মতে যেসব মেয়েরা অনলাইনে কাজ করে, তাদের উচিত সেলফ ব্র্যান্ডিং করে অন্য মেয়েদেরকে অনুপ্রানিত করা + মেয়েদের উচিত ছেলে রোল মডেল থেকেও অনুপ্রানিত হওয়া, হ্যা আমিও পারব!”

আসিফ আনোয়ারকে কোট করছি,

“আমারও তাই ধারনা। ফিমেইল রল মডেলের দরকার পড়ে না। তবে আমারদের যে সমাজ, তাতে কোন মেইল রোল মডেলের কাছ থেকে ডেডিকেশান দিয়ে একটা মেয়ের ভালোভাবে নিতে পারে না, যেটা একটা ছেলে খুব সহজেই পারে। গড়ে ডেডিকেশানের অভাব কিছুটা থাকলেও, বেতিক্রমও আছে। অনেকেই সংসারের কারনে, এখানে শ্রম দিতে গেলে ডাবল শ্রম হয়ে যায় ব্যাপারটা। তবে, ধিরে ধিরে ধৈর্য নিয়ে কাজ করে ভাল করেছে, এরকমও দেখেছি।”

ইন্টারনেট এর কাজ কিন্তু আমি নিজে ঘরে বসে শিখেছি, তাই আপনার উচিত কারো উপর ভরসা না করে গুগল আর ইউটিউব এর সাহায্য নেয়া।

সোহেল রানা একটি গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট তুলে ধরেছেন,

sohel1

কোট করছি,

“প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর উপর আলোকপাত করার জন্য। আসলে এর পিছনে অনেক কারণ আছে। তবে আমার কাছে প্রথম যেটা মনে হয় এর সাথে আত্ম নির্ভরশীলতার বিষয়টা অনেকাংশে জড়িত। বাংলাদেশে এখন ও সেই পরিস্থিতি গড়ে উঠেনি যে ছেলে হক আর মেয়ে হোক সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আত্ম নির্ভরশীল হতে হবে । বাংলাদেশের এখনো অনেক মেয়েই মনে করে যে তারা পড়াশোনা করছে ভাল একটা ডিগ্রি অর্জন করার জন্য,আত্ম নির্ভরশীল হবার জন্য নয় । আর এই মানসিকতা না থাকার কারণে তারা নিজেদের থেকে কোন চেষ্টা করেনা । তাই বলে সব মেয়ে নয় । আবার অন্যদিকে ছেলেরা তাদের ছাত্র জীবন থেকে চেষ্টা করে নিজে নিজে তার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার । ফলে তারা কোন না কোন আয় এর উৎস খোঁজে এবং যেহেতু বর্তমান সময় এ ইন্টারনেট সুবিধা অনেক ভালো,তাই তারা চেষ্টা করে এর মাধ্যমে কোন কিছু করে আয় করার । এবং তাদের এই চর্চা পপরবর্তীতে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় । আর এ কারণেই মনে হয় ছেলেরা মেয়েদের থেকে এই সব পেশায় অনেক বেশি এগিয়ে । যাই হোক আমার কাছে এটায় প্রধান কারণ মনে হয় ।”

মেয়েদেরকে, ছেলেরা কিছু করতে দিচ্ছে না, সবসময় ব্যাপারটা এমন না; অনেক মেয়েদের (সবার না) জীবনের একটাই লক্ষ যে সে বিয়ে করবে এরপর স্বামীর টাকায় শপিং করবে। একটা মেয়ে যদি নিজে থেকে আত্বনির্ভরশীল না হতে চায়, তাহলে কেউ তাকে এটা করিয়ে দিতে পারবে না।

আমার মনে হয় সবার প্রথমে মেয়েদেরকে তাদের ফ্যামিলিতে লিডার হিসেবে প্রতিষ্টিত করতে হবে। আর এজন্য ছেলেদেরকে তার ঘরের মেয়ে সদস্যদেরকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আরো কিছু কমেন্ট নিচে তুলে ধরলাম,

comments1

মাহবুব পিয়াল লিখেছেন,

“আমি মনে করি মেয়েদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ সেক্টর এটা , ছেলেরা ভালোভাবে উদ্যোগ নিলেই মেয়েরা এই সেক্টরে আগ্রহী হতে পারে”

মেহেদি লিখেছেন,

“আশা করি ধীরে ধীরে হয়ে যাবে, বাংলাদেশের মানুষ তো মাত্রই জানা শুরু করছে। একটা সময় আসবে যখন মেয়েরা তাদের ক্যারিয়ারের স্বপ্নে এটাকে স্থান করে নিবে আর সমাজ এবং পরিবার সেটাকে গ্রহন করবে যেমনটা অন্য প্রোফেশনের জন্য করে থাকে।”

এর জবাবে ইফাত শারমিন লিখেছেন,

“মনে হয় না হবে কারন আমাদের সমাজ আমাদের পরিবার মেয়েদের কাজ করাকে সাপোর্ট করে না…”

তিনি আরো লিখেছেন,

ifat-sharmin1

কোট করছি,

“খুব ভালো একটি বিষয় উত্থাপন করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে Tamal Anwar ভাই। আমার ক্ষেত্র থেকে এই টুকুই আমি বলবো যে আমরা মেয়েরা ঘরে বাইরে কোথাও থেকে তেমন সহযোগিতা পাই না বলে ইন্টারনেট মার্কেটিং এ আসতে পারছি না। সব থেকে বড় যে বাধাটি, সেটি আসে পরিবার থেকে, কারণ এই কাজে আসার জন্য প্রচুর সময় দিতেয় হয় নেট এ, যা পরিবার মেনে নিতে পারে না। একটি মেয়ে ইন্টারনেটে বসে আছে, এটা দেখলেই অনেকে ভ্রু কুচকে ফেলে। তাদের ধারণা মেয়েরা নেটে এতো থাকা টা নিরাপদ নয়, তাই পরিবার থেকেই তাকে প্রথম বাধা টা দেয়া হয়। আর একটি ছেলে যেভাবে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খুটি নাটি বিষয় গুলো জানতে পারে, শিখতে পারে, একটি মেয়ে চাইলেও তা পারে না, আমি নিজেই সেটা ফেইস করছি।”

একটা কথা এখানে উঠে এসেছে আর তা হল, সমাজ আর পরিবার মেয়েদেরকে কাজ করতে দেয় না।

আচ্ছা একটা পরিবারও তো ছেলে মেয়ে নিয়েই তৈরি (নাকি পরিবারে কেবল ছেলেরাই থাকে?), এই পরিবারেও তো তাহলে ৪৯-৫১ জেন্ডার রেশিও কাজ করছে।

আর সমাজ হলো অনেকগুলো পরিবারের সমন্বয় (নাকি সমাজ পরিবারের বাইরের একটা জিনিস?) আমরা যদি ধারনা করি যে শুধুমাত্র পরিবার/সমাজের জন্য মেয়েরা কাজ করতে পারে না, তার মানে কি এই না যে মেয়েরাও মেয়েদেরকে অনলাইন/অফলাইনে কাজ করতে বাধা দেয় (যেহেতু সমাজ = ৪৯% ছেলে + ৫১% মেয়ে)

আচ্ছা একটা মজার ব্যাপার লক্ষ করুন,

এই গ্রুপ পোস্টটাতে যান

এখানেও দেখবেন যারা কমেন্ট করেছে তারা সবাই ছেলে(আবার সেই ৯৯%), আর এখনো পর্যন্ত একজন মেয়ে শুধু কমেন্ট করেছে, ইফাত শারমিন। যার কমেন্টট এর সারমর্ম, “সমাজ/পরিবার মেয়েদেরকে কাজ করতে দিবে না আর কখনো দিবেও না।”

ছেলেদের কমেন্ট পড়লে দেখবেন একজন বাদে বাকি সবাই মোটামুটি আশাবাদী এবং মেয়েদেরকে এই সেক্টরে কাজ করার ব্যাপারে উৎসাহী।

তাই আমি এটাই বলবো, যে যদি সমাজ বা পরিবারের কারনে মেয়েরা অনলাইনে কাজ করতে না পারে, এর দোষ শুধু ছেলে না, বরং মেয়েদেরও আছে। কারন আমি, তুমি, আমরা সবাই মিলেই এই সমাজ, জাতি এবং এই দেশ।

তাই আমি এই ডিসকাশন আর না বাড়িয়ে, আমি কাজে লেগে পড়লাম। আমরা সারা জীবন আলোচনা সমালোচনা করতে পারবো এই বিষয়ে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না।

আমার ঘরেও ১৮ বছর বয়সি কর্মক্ষম একটি মেয়ে আছে। ওর নিজের একটা ল্যাপটপ আর ইন্টারনেট কানেকশন আছে। সে দিনরাত ফেসবুকে সময় কাটায়।

এর আগেও আমি ওকে অনলাইন কাজের ব্যাপারে বলেছিলাম কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। এবার আমি তাকে কড়া করে বললাম আর অনলাইন কাজের জন্য মটিভেট করলাম।

আমি তাকে (এবং আমার ভাইকে) বললাম, বাবা-মা যখন আর থাকবে না, আমি আর তোদেরকে পালতে পারবো না। আমার বিয়ের পর যখন তোদের ভাবি আসবে তখন তোদেরকে চাকরের মত খাটতে হবে। তুই যখন বিয়ে করে আরেক ঘরে যাবি, সেখানেও তোর বুয়ার কাজ করতে হবে। তাই নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজের লাইফ নিজে সেট করতে হবে। নিজের ইনকাম আর ক্যারিয়ার থাকলে জীবনটা নিজের মত করে চালাতে পারবি।

মটিভেশনে কাজ হল আর সে কাজে লেগে পড়লো। আমি তাকে বাবলস ওয়েবসাইটে কাজ করার জন্য পরামর্শ দিলাম। আমি তাকে বললাম যে মাসে ৫০ হাজার টাকা কামানো লাগবে না, মাসে ১ হাজার টাকা ইন্টারনেটের বিল দেয়ার মত টাকা কামাই করলেই হবে, এরপর আস্তে আস্তে নিজের লেভেল আর ইনকাম বাড়াতে হবে।

সে অনেক পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে সেই ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লেখার কাজ করতে লাগলো।

মাত্র ১৫ দিন পর সে ৫১ ডলার (৪ হাজার টাকা) আয় করে ফেলল।

bubblews

এখন সে আরো এডভান্স লেভেলের সাইটগুলোতে কাজ করছে।

আমি সফল হয়েছি, আমার ঘর থেকে আমি শুরু করলাম আর আমার বোনকে আমি অনলাইনে আয় করা শিখিয়েছি। এখন আপনার পালা, আপনার ঘরের মেয়েদেরকে অনলাইন আয়ের ব্যাপারে উৎসাহী করুন। তাদেরকে ইন্টারনেট মার্কেটিং শিখান। একদিন দেখা যাবে যে আমাদের দেশের এই ৫১% মানুষ আর বোঝা থাকবে না।

status mine2

আপনারা যারা অনলাইনে নতুন, আয় করতে চান, তারা আমার ওয়েবসাইটে শিখতে পারেন।

Sources:

  1. Gender ratio in Bangladesh till 2013
  2. Men and women differ in brain use during same task
  3. Bill Gates tells the truth in Saudi Arabia

{ 4 comments… read them below or add one }

irtiza104

Good job Tamal bhai. But I have a complain about Bublews. I opened an account there, posted a genuine article that has a meaning (you know most of the articles there are just for the money and they add little value to the internet) but my account got deleted within 24 hours. I opened another account and posted another genuine article but my account got deleted again.

I am not sure what happened. I checked the terms and I did not break any. Do you have any idea why this happened? I checked their FB group and some other people also complained the same thing.

After my account got deleted twice without a reason (and when i asked support, they did not reply) I did not open an account for the third time. I was disappointed and did not have any clue why this happened.

Tamal Anwar

Welcome back Asif! I don’t like bubblews either but it’s great for beginners and surprised that they paid.

Well I think the site owners are like dictators and will delete a post if it goes against it or mentions about other earning methods. What was your article about?

irtiza104

That’s the thing. The article was about “how to reduce your grocery bill”.

বিথি

ভাল লিখেছেন তমাল ভাইয়া … আশা করি সবাই আপনার মত মনমানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসুক …