ব্লগ শুরু করে দিন!

by তমাল আনোয়ার on May 22, 2014

বন্ধুরা কেমন আছেন?

আমি ভালো আছি।

গত ২০ তারিখে গিয়েছিলাম ইন্টারনেট মার্কেটিং আড্ডায়; এযাবত কালের সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট মার্কেটারদের মিটাপ ছিল এটি।

কখন, কি, কেন, কিভাবে, কারা? বিস্তারিত জানতে পড়ুন এই পোস্টটি আর এই লেখাটিতে রয়েছে এর পেছনের গল্প

অনেক বিষয়ে সেদিন আলোচনা হলো এবং বারবার নিজেকে ব্র্যান্ডিং নিয়ে কথা বার্তা হল।

আরো ছবি এখানে

আমি সবাইকে সাজেশন দিলাম যে আমরা সবাই যারা ইন্টারনেট মার্কেটিং এ আছি তাদের সবার ব্লগ করা উচিত। একথায় সবাই একমত পোষন করলো।

ব্লগিং হলো একটি টু-এজড-সোর্ড অথবা দুই দিকে ধার ওয়ালা তলোয়ার।

প্রথমত আপনি আপনার ব্লগে আপনার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন, যাতে করে মানুষ জানতে পারলো আপনি একজন এক্সপার্ট। -এর মানে এই না, যে আপনি ব্লগে লিখবে “আমি এটা পারি, আমি সেটা পারি” আপনি লিখবেন এমন কিছু কথা যাতে অন্যেরা উপকৃত হয়।

দ্বিতীয়ত আপনি আপনার ব্লগকে একটি লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যাবহার করতে পারবেন, যেখান থেকে আপনি আপনার কাস্টমারকে কিছু সেল করতে পারেন।

এখন যেহেতু সোশাল মিডিয়া আছে, প্রায় সবারই ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস একাউন্ট আছে –আপনি প্রশ্ন করতে পারেন “তাহলে ব্লগের কি দরকার?”

কারনটা হল এই, ৫ বছর আগে ফেসবুক-টুইটার কিছুই ছিলনা; এবং ভবিষ্যতে হয়ত নতুন কোন প্ল্যাটফর্ম এসে যাবে (যেমন ইন্সটাগ্রাম, পিন্টারেস্ট)

কিন্তু কিছু কিছু প্ল্যাটফর্ম এখনো রয়ে গেছে, যেমন ইমেইল, ফোরাম, ওয়েবসাইট এবং ব্লগ।

সোশাল মিডিয়া একাউন্টগুলো আপনার নিজের না, আর যেকোন সময় এটি ব্যান হয়ে যেতে পারে। যেকোন সময় নতুন নিয়ম চালু হতে পারে যেখানে আপনি কিছু প্রোমোট করতে পারবেন না।

অন্যদিকে আপনার ব্লগ আপনার নিজের, এখানে নেই কোন বাধা। আপনি নিজেকে যেভাবে খুশি উপস্থাপন করতে পারেন। আপনি একটি ওয়েব ডোমেইন নিয়ে ব্লগ শুরু করলে এটি সারাজীবন আপনি রাখতে পারেন। সোশাল মিডিয়া যতবারই চেঞ্জ হোক বা নতুন যেকোন কিছুই আসুক না কেন, ইন্টারনেট যতদিন থাকবে, ততদিন আপনি এটা ব্যবহার করতে পারবেন।

তাহলে আর অপেক্ষা কেন?

ব্লগ শুরু করে দিন।

আমি দেখিছি যে আপনাদের মাঝে অনেকেই ব্লগ শুরু করে দিয়েছেন,

কিন্তু এখন কি?

বিস্তারিত পড়ুন…

আপনি ব্লগটি সবার জন্য না লিখে, লিখুন আপনার কাংখিত পাঠকদের জন্য।

কে আপনার পাঠক, কাদেরকে আপনি আকৃষ্ঠ করতে চাচ্ছেন?

যেমন এই লেখায় আমি বাংলাদেশের ইন্টারনেট মার্কেটিং এক্সপার্ট যাদের ব্লগ আছে বা শুরু করতে চাইছেন, তাদের জন্য লিখছি।

তারা কোন ভাষায় কথা বলে?

তারা বাঙ্গালী হলে আমি বাংলায় লিখব, আর বিদেশি ভাষাভাষী হলে আমি আমার ব্লগ ইংরেজীতে লিখব।

নিজেকে প্রশ্ন করুন,

আমার যারা ক্লায়েন্ট বা কাস্টমার, তাদের কি কি সমস্যা, তারা কি জানতে চায়?

আমি এমন কি কি জানি, যা আমার কাংখিত পাঠকদের জানাতে পারবো?

যে বিষয়ে আমি লিখছি তার পর্যাপ্ত চাহিদা আছে তো?

আমি কি এই বিষয়ে আগামী ৫-১০ বছর লিখে যেতে পারবো?

এই ব্লগ এর ভবিষ্যৎ কি?

এই সকল প্রশ্নের জবাব খুজে বের করুন, কিছু সময় ব্যয় করুন রিসার্চ করতে, এরপর শুরু করে দিন।

ব্লগের সেটাপ কেমন হবে?

ব্লগটির জন্য প্রথমেই একটি সুন্দর ও ছিমছাম টেমপ্লেট সেট করুন। টেমপ্লেটটি আপনার ব্লগের ব্র্যান্ডিং এর জন্য মানানসই হতে হবে।

এমন একটি থিম/টেমপ্লেট সেট করুন যা খুব দ্রুত লোড হয়। দরকার হলে অন্য পিসিতে আপনার ব্লগটি খুলে দেখুন কত সময় লাগে।

আপনার ব্লগের জন্য এই কয়েকটা পেজ সেট করুন,

১) এবাউট পেজঃ- ব্লগ ব্র্যান্ডিং আর সেলফ ব্র্যান্ডিং এর জন্য অবশ্যই একটি এবাউট পেজ থাকতে হবে। এ পেজে নিজের একটি ভাল প্রফেশনাল ফটো দিবেন। সাথে নিজের বায়োগ্রাফি থাকতে হবে। বায়োটি ফার্স্ট পারসনে লিখলেই ভাল হয় কারন আপনার ব্লগের আপনি লিখছেন।

২) কনটাক্ট পেজঃ- এই পেজে কিভাবে মানুষ আপনার সাথে যোগাযোগ করবে তার বিস্তারিত বর্ননা করবেন। সাধারনত এই পেজে একটা ইমেইল এড্রেস বা ইমেইল ফর্ম থাকে। স্কাইপি বা ফোন নাম্বার, অফিসের ঠিকানা (যদি থাকে) তাহলে সেগুলো এখানে উল্লেখ করতে পারবেন। মোটকথা, যে এই পেজে এসেছে, সে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে চায়, তাই আপনাকে কিছু অপশন দিতে হবে যেন পাঠক আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

৩) সার্ভিসেস পেজঃ- প্রথমেই বলেছিলাম যে আপনার ব্লগ আপনার জন্য একটি লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে। আপনি যদি সার্ভিস অফার করে থাকেন (যেটা প্রায় আমরা সকল ইন্টারনেট মার্কেটাররাই করে থাকি) তাহলে সেটা এখানে উল্লেখ করুন। আপনার ব্লগ থেকে আপনি অনেক ক্লায়েন্ট পেয়ে যাবেন।

৪) রিসোর্স পেজঃ- আপনার পছন্দের ব্লগ, সার্ভিস সমূহের লিস্ট এই পেজে দিতে পারেন। এতে করে আপনি পাঠক হারাচ্ছেন না, বরং পাঠক আপনাকে পছন্দ করবে যে আপনার মাধ্যমে সে এত কিছু জানতে পারছে।

ব্লগের লেখাগুলো কিভাবে সাজাবো?

ব্লগের লেখা সাজানোর সবচেয়ে ভাল উপায় হলো ক্যটেগরি। শুরুতে ক্যটেগরি না বানিয়ে, প্রথমে কিছু লেখা পাবলিশ করুন, এরপর তাদেরকে উপযুক্ত ক্যটেগরিতে ভাগ করুন। ব্লগে ট্যগ এর ব্যবস্থাও আছে। তবে মনে রাখবেন যে আপনার ব্লগের যেন খুব কম ক্যটেগরি (যেমন ৪টি) আর ট্যগ থাকে (প্রতি পোস্ট এ মাত্র ৩-৪টি)

প্রায় সময়ই আমি দেখি যে নতুন ব্লগারেরা অনেক ক্যটেগরি তৈরী করে ফেলে পরে আর লেখতে পারে না। তাই আগে লিখুন, তারপরে ক্যটেগরি সেট করুন।

লেখার সাথে সুন্দর ছবি এড করে দিন।

আপনি যদি ভাল ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন তাহলে আপনার তোলা ছবিগুলো এড করে দিন। অন্যের ফটো ব্যবহার করার আগে তাদের অনুমতি নিন এবং ছবির সাথে একটি ক্রেডিট লিংক দিয়ে দিন।

আপনি ক্রিয়েটিভ কমনস এ গিয়ে আপনার ব্লগে ব্যবহার করার জন্য ছবি খুজে নিতে পারেন।

ব্লগের লেখার সাথে সামাঞ্জস্যপুর্ন ছবি দেয়া একজন পেশাদার কন্টেন্ট মার্কেটারের গুন। এতে পাঠক পড়তে আগ্রহ পাবে, ঠিক তেমনি যেমন আমরা ছবি সহ বই পছন্দ করি।

ব্লগের লেখাগুলো এভাবেই ছোট ছোট প্যরাগ্রাফে ভাগ করে দেবেন যাতে করে পড়তে সহজ হয়।

কতখানি লিখব আর কয়বার লিখব?

এটা নির্ভর করে আপনি কি শেয়ার করছেন। ব্লগ কয়েক লাইনেরও হতে পারে আবার ৫০০-১০০০ শব্দেরও হতে পারে। তবে বর্তমানে সবাই লিখছে। তাই সবার থেকে আলাদা হতে হলে আপনাকে প্রচুর পরিমান লিখতে হবে। যত বেশি তথ্য নির্ভর লেখা লিখবেন, তত বেশি আপনার লেখা শেয়ার হবে। বেশি বেশি লেখা যেমন ৫০০-১০০০ শব্দের তথ্য-নির্ভর পোস্ট এখন গুগল খুব পছন্দ করে।

চেষ্টা করুন সপ্তাহে ১টি করে নতুন লেখা পোস্ট করার।

তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে মাসে ২ট অথবা অন্তত ১টা লেখা ব্লগে আপডেট করার।

প্রতিটি পোস্ট যেন মানুষ আগেরটার চেয়ে দ্বিগুন আগ্রহ নিয়ে পড়ে, সেটার চেষ্টা করুন।

যদি দেখেন যে সময় হয়ে গেছে, আমার একটা পোস্ট লেখতে হবে, তাহলে লেখার দরকার নেই।

যখন ভেতর থেকে লেখা বের হবে তখনি আপনি ব্লগে লিখুন।

নিয়মিত ব্লগ লেখলে পাঠকেরা নিয়মিত আসবে আর সার্চ ইঞ্জিনে আপনি দ্রুত এগিয়ে যাবেন।

ব্লগ লিখলাম, এখন প্রমোট করব কিভাবে?

ব্লগ লিখে ফেসবুক, টুইটারে প্রমোট করেই বসে থাকবেন না। আরো দূরে যান। বিভিন্ন গ্রুপ আর ফোরাম (যেটা আপনার ব্লগের বিষয়ের সাথে মিলে যায়) সেখানে শেয়ার করুন। অন্যান্য ব্লগে কমেন্ট করুন। আপনার বন্ধুদেরকে ইমেইল করে জানান, তাদেরকে নতুন লেখাটি পড়তে আর তাতে কমেন্ট করতে বলুন।

আপনার লেখায় পাঠককে প্রশ্ন করুন। তাদেরকে কমেন্ট করতে উৎসাহিত করুন।

কেউ কমেন্ট করলে তার রিপ্লাই দিন। ব্লগে সোশাল শেয়ার বাটন দিন, যেন যে কেউ খুব সহজেই এটা শেয়ার করতে পারে।

অন্য ব্লগারদের সাথে (অবশ্যই যারা আপনার ব্লগের বিষয়ের ওপর লেখে) তাদের সাথে বন্ধুত্ব করুন। তাদেরকে আপনার ব্লগের লেখা লিংক করতে অনুরোধ করুন।

রিনস, ওয়াশ এন্ড রিপিট (চালিয়ে যান!)

যা করছেন চালিয়ে যান। ভাল ভাল পোস্ট লেখুন, মানুষকে হেল্প করুন, লেখা শেয়ার করুন, ক্লায়েন্ট আকর্ষন করুন আর টাকা আয় করুন।

এখন আপনার জন্য একটি চ্যলেঞ্জ…

ব্লগ শুরু করেছেন?

আমি একটি লিস্ট তৈরী করিছি যেখানে আমি বাংলাদেশের সব ইন্টারনেট মার্কেটারদের ব্লগ এর কালেকশন করছি।

এই লেখাটির নিচে একটি কমেন্ট করুন আর আপনার ব্লগ এর লিংকটি দিন।

আমাকে আরো জানান কেন আপনি আপনার ব্লগটি লিখছেন? আপনার কাংকিত পাঠক কারা?

এই লেখাটি সোশাল মিডিয়া/ইমেইল যেকোন ভাবে আপনার কোন বন্ধুর কাছে শেয়ার করুন আর তাকেও ব্লগ লিখতে উৎসাহিত করুন।

আবার কথা হবে!

তমাল আনোয়ার

{ 7 comments… read them below or add one }

Mohammad Asif

ধন্যবাদ তমাল ভাই দারুন একটা লেখার জন্য।
হ্যাঁ আসলেই আমাদের সবার ব্লগ করার দরকার আছে।

Md Ekram

পোস্টটি ভাল লেগেছে। অনেক কিছু জানতে পারলাম।

তমাল আনোয়ার

আমার ব্লগের আসার জন্য থ্যাংস! টিপসগুলো কাজে লাগিয়ে দিন!

তমাল আনোয়ার

আপনার ব্লগের ঠিকানাটি দিন!

Zahid Hasan

Good post!

Ifat Sharmin

Absolutely a valuable post indeed..Thanks a lot..

SEOSBS.CoM

Bosser lekha post…. Share na kore parlam na…. Thanks again Tamal vai…